ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র তান্ডবলীলার পর কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। মঙ্গলবার সকাল ৬ টা থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আক্রমন করলেও দুপুর নাগাদ ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়লে বন্দরে পন্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। একই সাথে বিমান বন্দরেও ফ্লাইট উঠানামা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটা থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। তবে আউটারে পাঠিয়ে দেওয়া জাহাজ জেটিতে ভিড়তে না পারায় জাহাজ থেকে পণ্যে উঠা-নামার কাজ শুরু হয়নি।
তবে বুধবার সকালে জোয়ারের সময় জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর পর জাহাজ থেকে পণ্য উঠা-নামা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সরওয়ার।
তিনি বলছিলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে বন্দরের জেটিতে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তা সার্ভে করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তারপরই জাহাজ ভেড়ানো হবে।
এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলায় গত সোমবার বিকেলে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার পর থেকে বন্দরের সব গেইট বন্ধ করে ভেতর থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বের করে দেওয়া হয়। বন্দরের যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া চার নম্বর অ্যালার্ট জারি করা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া গত সোমবার সকাল ১০টা থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস এবং জেটিতে অবস্থানরত জাহাজে কনটেইনার ও কার্গো লোড-আনলোড বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আটঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফ্লাইট উঠা-নামা শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির বলেন, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দুইটার পর থেকে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে গত সোমবার আবহাওয়া অধিদফতর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলার পর জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ৮ঘণ্টা বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেন।




