কেস ফলোআপঃ ১২
ঘটনার তারিখ ও সময়ঃ ২১ জুন, ২০১৭ সময় অনুমান ভোর ০৫.০০ টা হতে বেলা ১২.০০ টার মধ্যে যেকোন সময়।
ঘটনাস্থলঃ রূপনগর থানাধীন বিরুলিয়া ব্রীজ হতে অনুমান ৫০০/৬০০ গজ উত্তরে, ঢাকা বোর্ড ক্লাবের পূর্বে, মেইন রাস্তার পাশে গভীর জঙ্গলে।
বাদীঃ মাসুম তালুকদার (ভিকটিমের ছোট ভাই)
মামলা নং: রূপনগর থানার মামলা নং-১৯ তারিখঃ ২১/০৬/২০১৭ ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪ পিসি
তদন্তকারী সংস্থাঃ গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা।
অভিযোগপত্র নং: রূপনগর থানার অভিযোগপত্র নং-২৭ তারিখ ১৪/০৩/১৯।
ধারাঃ-৩০২/২০১/৩৪ পিসি
মোট অভিযুক্তঃ ০৫ জন।
মোট নিহতঃ ০১ জন।
মোট আলামতঃ ২২ টি।
কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিঃ ০১ জন।
এজাহারের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
বাদী থানায় অভিযোগ করেন যে তার বড় ভাই এএসপি মোঃ মিজানুর রহমান তালুকদার সাভার হাইওয়ে (সার্কেল) পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার ভাই, তার স্ত্রী সাহানা বেগম এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ বাড়ি নং ৩৮ রোড নং-০৩, সেক্টর-০৫ উত্তরা ঢাকায় স্ব-পরিবারে বসবাস করেন। বাদীর ভাই ২১/০৬/১৭ তারিখ বাসায় বিশ্রাম নিয়ে সেহেরী খেয়ে ভোর অনুমান ০৫.০০ টায় সিভিল শার্ট ও পুলিশের প্যান্ট পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল নং যথাক্রমে ০১৭১৫০৩৪৮৯০ এবং ০১৭৬৯৬৯১৩১৫ সহ একটি কালো সাইড ব্যাগে পুলিশের ইউনিফর্ম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্রসহ তার কর্মস্থল সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মর্মে জানতে পারেন। গত ২১/০৬/১৭ তারিখ বেলা অনুমান ১২.০০ টায় বাদীর ভাইয়ের মোবাইলে বাদী ফোন দিলে রূপনগর থানা পুলিশ রিসিভ করে এবং বলে তার ভাইয়ের মৃতদেহ রূপনরগ থানাধীন বিরুলিয়া ব্রীজ থেকে টঙ্গির দিকে অনুমান ৫০০/৬০০ গজ উত্তরে, ঢাকা বোর্ড ক্লাবের পূর্বে, মেইন রাস্তার পাশে গভীর জঙ্গলে পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে বাদী ঘটনাস্থলে দ্রুত চলে আসে। পরবর্তী সময়ে বাদী ঘটনাস্থলে এসে বাদীর বড়ভাই মিজানুর রহমানকে রাস্তার পাশে মৃত অবস্থায় দেখিতে পেয়ে সনাক্ত করে। বাদি দেখেন তার ভাইয়ের কপালের উপর চামড়া ছোলা ডান গালে ধারালো অস্ত্রের কাটা যখম ও বাম গালে যখম এবং গার্মেন্টসের জুট কাপড় দিয়ে ফাঁস দেয়া। অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা বাদীর ভাইকে ২১/০৬/১৭ তারিখ ভোর ০৫.০০ টা হতে বেলা ১২.০০ টার মধ্যে যেকোন সময় গলায় জুট কাপড় দিয়ে পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ ও আঘাত করে হত্যা করে রূপনগর থানাধীন বিরুলিয়া ব্রীজ থেকে অনুমান ৫০০/৬০০ গজ উত্তরে, ঢাকা বোর্ড ক্লাবের পূর্বে, মেইন রাস্তার পাশে গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে। বাদীর ভাইয়ের সরকারি ওয়ারল্যাস তার সাইড ব্যাগে থাকার কথা যা পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে বাদীর ভাইয়ের সরকারি মোবাইল, পুলিশের পোশক, ব্যাগসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত মালামাল ও আলামত সমূহ উদ্ধার করেন।
তদন্তঃ
সম্পূর্ন ক্লুলেস এবং লোমহর্ষক ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ। নিবিড় তদন্তে অত্র মামলার ঘটনার সাথে মোট ৫ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ২ জন পুলিশের সাথে গোলাগুলির সময় ছিনতাইকারীর গুলিতে মারা যায়। বাকী ৩ জনের মধ্যে ২ জনকে পুলিশ সনাক্ত করতে পারে। যার মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। যে ১ জনের নাম ঠিকানা পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি পরবর্তী সময়ে তার নাম ঠিকানা পাওয়া গেলে অথবা গ্রেফতার করা সম্ভাব হলে তার বিরুদ্ধে অত্র মামলায় সম্পূরক অভিযোগ পত্র দাখিল করা হবে।
গ্রেফতারকৃত আসামীঃ ০১ জন।
১। মোঃ শাহ আলম @ আলম @ বুড্ডা।
পলাতক আসামীঃ ০১ জন।
১। মোঃ ফারুক হাওলাদার।
অসনাক্তকৃত ও অগ্রেফতারকৃতঃ ১ জন ।
১। কামাল
অভিযানকালে নিহতঃ ২ জন।
১। মোঃ জাকির হোসেন।
২। মোঃ আয়নাল হক @ এনামুল হক @ মিন্টু।
বর্তমান মামলার অবস্থাঃ মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।





