ডিএমপি নিউজঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এসডিজি-র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিসমূহকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতে আনতে হবে। যুগোপযোগী প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানসমূহকে দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর পরিচালনা পর্ষদের ৭০ তম সভায় সভাপতিত্বকালে এসব কথা বলেন। সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাফরূহা সুলতানা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর মহাপরিচালক মুহম্মদ মউদুদউর রশীদ সফদার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পর্ষদেও অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ন্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বার্ড-কে সচল রাখতে নিয়মিত বোর্ড সভা করতে হবে। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে না চিনলেও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-কে চিনে। আখতার হামিদ খান প্রতিষ্ঠিত বার্ডই দ্বি-স্তরী সমবায় ব্যবস্থা ও ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার সূচনা হয়। ঠিকমত তুলে না ধরার কারনে ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোক্তা হিসেবে বার্ডের নাম মানুষের কাছে অপরিচিত রয়ে গেছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প ও দারিদ্র্য বিমোচনের সমবায় অধিদপ্তরের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পসমূহকে কিভাবে আরও বেগবান করা যায় সে বিষয়ে একাডেমিসমূহ পরস্পর অভিজ্ঞতা বিনিময় করার মাধ্যমে এসকল প্রকল্পকে আরও গতিশীল ও জনকল্যাণকর করতে পারে।
মন্ত্রী সারা দেশের ৫৭ লাখ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ২ কোটি হাওড়বাসীর উন্নয়নে কিভাবে কাজ করা যায়, তা খুঁজে বের করতে বার্ডকে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আমি বার্ড-এর সূচনালগ্নে ওয়ার্কস প্রোগ্রামে প্রথম ডিগ্রীধারী প্রকৌশলী ছিলাম। আজকের যে এলজিইডি, তার ধারণাও বার্ড, কুমিল্লা হতে প্রসূত। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এ প্রতিষ্ঠানটিকে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য কর্মী গড়ে তোলার পাশাপাশি সমবায় ও ক্ষুদ্রঋণকে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে কিভাবে ব্যবহার করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কুমিল্লা বার্ড ও আরডিএ, বগুড়াকে সমন্বিতভাবে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায়োগিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া উপকারভোগী সৃষ্টিতে গ্রামে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে কথা বলতে হবে। বার্ড সৃষ্টির অতীত ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট সকলকে জানাতে হবে। দরিদ্র বিমোচনে গৃহীত যে কোন প্রকল্প অনুমোদনের ব্যবস্থা আমি করব। তবে প্রকল্প যেন দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর হয় প্রকল্প প্রণয়নে বিষযটি মাথায় রাখতে হবে।বিবি/০১



