নব শালবন বিহারে প্রবেশ করলে প্রথমেই সোনালি রঙের বিশাল বৌদ্ধ মূর্তিটি দেখা যায়। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় চকচক করা এই মূর্তি অনেক দূর থেকেই যে কারো নজরে পড়ে। মূর্তির পাশেই রয়েছে রাজকীয় ভাবে অবস্থানরত একই রঙের দুটি সিংহ। কারুকার্য মণ্ডিত এই মন্দিরের চারপাশে রয়েছে ৩ টি বড় ও ১ টি ছোট মটক। এছাড়াও রয়েছে মেডিটেশন সেন্টার, শালবন বিহার, এতিম খানা, লাইব্রেরী, জাদুঘর, সেমিনার ও আবাসিক হোস্টেল।

প্রাচীন সভ্যতায় সমৃদ্ধ কুমিল্লা জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনায় নতুন এক সংযোজন এ কোটবাড়ি এলাকার নব শালবন বিহার (Nobo Shalbon Bihar) দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন

নব শালবন বিহারে যাওয়া জন্য প্রথমেই কুমিল্লা (Comilla) শহরে আসতে হবে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে পারবেন ট্রেন বা বাসে। রেল পথে মহানগর গোধূলী, উপকূল এক্সপ্রেস, পাহারিকা এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এর মতো ট্রেনে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া যায়।

সড়কপথে রয়্যাল কোচ, এশিয়া এয়ারকন, প্রিন্স, এশিয়া লাইন, তৃষা এর মতো নন এসি বা এসি বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে পারবেন। অথবা চট্টগ্রাম বা ফেনিগামী যেকোনো বাসে উঠলেও কুমিল্লা যাওয়া যাবে। বাস ভেদে ভাড়া পড়বে ১৭০ থেকে ৩০০ টাকা। বাস থেকে কুমিল্লার কোটবাড়ি বাস স্ট্যান্ডে নেমে বাস স্ট্যান্ড থেকে সি এন জি বা রিক্সায় নব শালবন বিহার যাওয়া যাবে।

আবার কুমিল্লা শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে নব শাল বন বিহার মাত্র ১৩ কিলো। জিরো পয়েন্ট থেকে বাস বা সি এন জি দিয়ে কান্দিরপাড় সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-কোটবাড়ি রাস্তা হয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামের রাস্তা দিয়ে এগোলেই নব শাল বনে পৌঁছে যাবেন।

প্রবেশমূল্য ও সময়সীমা

সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকা নব শালবন বিহারে সর্ব সাধারণের জন্য প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। তবে সাথে DSLR ক্যামেরা থাকলে ৫০ টাকা এবং ভিডিও ক্যামেরা থাকলে ১০০ টাকা আলাদা করে অতিরিক্ত দিতে হবে।

কোথায় থাকবে

কুমিল্লায় রাত্রিযাপনের জন্য কান্দিরপাড়, শাসনগাছা ও ষ্টেশন রোডে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। যেমন- হোটেল ভিক্টোরিয়া আবাসিক, আমানিয়া রেস্ট হাউজ, হোটেল ড্রিমল্যান্ড, মাসুম রেস্ট হাউজ, হোটেল মেলোডি, হোটেল নূর, হোটেল সোনালি ইত্যাদি।  

গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • নব শাল বন বৌদ্ধদের পবিত্র উপাসনালয় তাই অবশ্যই ধর্মীয় ভাব-গাম্ভির্যের পাশাপাশি শালীনতা বজায় রেখে চলবেন।
  • আশেপাশের পরিবেশ যথা সম্ভব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

এই বৌদ্ধ মন্দিরটির সাথেই রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর। এছাড়া এই কোটবাড়ি এলাকাতেই রয়েছে রুপবান মুড়া, ইটাখোলা মোড়া ও আনন্দ বিহার।