ডিএমপি নিউজঃ জনহয়রানিমূলক যেকোন কাজের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি, জনগণের সেবক। জনগণের প্রতি বলপ্রয়োগ, লাঠি ঘোড়ানো ও হুমকি-ধামকি প্রয়োগ আমাদের কাজ নয়। এজন্য সকল পুলিশ সদস্যকে নিয়মিত মটিভেশন করা হচ্ছে।
বুধবার ৩০ জানুয়ারি বেলা ১১ টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ‘পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯’ উপলক্ষে ডিএমপি আয়োজিত র্যালীতে যোগদানের পূর্বে সকলের উদ্দেশ্যে একথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।
র্যালী উদ্বোধনী বক্তব্যে কমিশনার বলেন, আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। অপরাধ দমনে অংশীদারিত্বমূলকভাবে জনগণ ও পুলিশ এক হয়ে কাজ করবে এটাই আমাদের প্রত্যশা। আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ জনসাধারণকে নিয়ে কাজ করছে।

বেলুন উড়িয়ে পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ র্যালীর উদ্বোধন
তিনি বলেন, জনবান্ধব, নারী ও শিশু বান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও জনগণের মাঝে কাঙ্খিত সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা ঢাকা মহানগরী থেকে ভূমি দস্যুতা, সন্ত্রাস, জঙ্গি কার্যক্রম, মাদক, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের শিখর সমূলে উৎপাটন করব। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন কথায় নয় কাজে প্রমান করছি। ঢাকা মহানগরীর প্রায় ২ কোটি মানুষ যাতে নিরাপদে ঘরে ঘুমাতে পারে, সেজন্য ডিএমপি অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। ঢাকা মহানগরীতে বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার। এই মহানগরীর প্রায় প্রতিটি জায়গায় নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। অপরাধীকে দ্রুত সময়ে সনাক্তের জন্য ৮০ লক্ষ নগরবাসীর তথ্য আমাদের সংরক্ষণে রয়েছে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। এর ফলে আমরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পারছি।

ডিএমপি কমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ এর র্যালী
কমিশনার আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এ লক্ষ্যে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ঢাকা মহানগরী থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের শিখড় উপড়ে ফেলবো। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের গোয়েন্দারা ও থানা পুলিশ কাজ করছে। ঢাকা শহরে কোন মাদকের আখড়া থাকলে পুলিশকে খবর দিন। ইতোমধ্যে ঢাকা শহরের মাদকের সব আখড়া ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। পুলিশের কোন সদস্য মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কমিশনার বলেন, বিগত দিনে ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অনুষ্ঠানে নগরবাসীর যেরকম সমর্থন দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ র্যালী থেকে ছোট সোনামনিদের চকলেট উপহার দেয়া হচ্ছে।
বক্তব্য শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সামনে দিয়ে বেইলী রোড হয়ে শান্তিনগর ক্রসিংয়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালীর নেতৃত্ব দেন ডিএমপি কমিশনার। সেই সাথে র্যালীতে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি’র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্য, সুধীজন ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

জনসাধারণের অংশগ্রহণে পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ এর র্যালী অনুষ্ঠিত
এর আগে র্যালীতে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে অন্যান্য বক্তারা পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ এর কর্মকান্ড সম্পর্কে বলেন, জননিরাপত্তা বিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের পক্ষ থেকে যেসকল সেবা জনসাধারণকে দেয়া হয়, সেসব সেবা জনসাধরণকে অবহিত করা ও এর কর্মকান্ড তুলে ধরা পুলিশ সেবা সপ্তাহের মূল লক্ষ্য। পুলিশের সফলতা নির্ভর করে জনগণের সহযোগিতার উপর। জনগণের সহযোগিতা পেতে আমরা বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং ও উঠান বৈঠক করে জন সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জনগণের আস্থা না নিয়ে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না।
উল্লেখ্য, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ‘পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯’ শুরু হয়ে চলবে ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত।





