মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়ার পর এখন শান্তির আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের উদ্যোগে উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এই উন্নয়ন মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, যারা যেকোনো সময় তেহরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ছিলেন।
গত জানুয়ারিতে ইরানে সহিংস বিক্ষোভ এবং সরকারের কঠোর দমনপীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার হুমকি দেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ সহ বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেন। উল্টোদিকে, ইরানও পিছিয়ে যায়নি—তেহরান সতর্ক করে দেয় যে, কোনো হামলা হলে আঞ্চলিক যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। এই উত্তেজনার মাঝে আঙ্কারা মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হামলার বিরোধিতা করেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দেন।
এরদোগানের তৎপরতায় পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। তিনি ট্রাম্পকে ফোন করে উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সের ব্যবস্থা করেন, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেশ কিছু বিষয় সামনে আনা হয়েছে। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছি।” এদিকে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী বাঘেরি স্পষ্ট করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেব না। এ ধরনের গুঞ্জন স্রেফ গুজব। তেহরান কখনোই ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনা বা চুক্তি করবে না।”
এই আলোচনার প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুর্কির মধ্যস্থতা সফল হলে এটি আঞ্চলিক শান্তির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে, পরমাণু কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে চুক্তি পৌঁছানো সহজ হবে না। আপাতত, উভয় পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব আশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



