দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালি ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ, সেমিকন্ডাক্টর, এভিয়েশন এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ও চিপসের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সিউলের প্রেসিডেনশিয়াল অফিস (ব্লু হাউস) এ দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে স্বাগত জানান। এটি প্রায় ১৯ বছর পর দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনো ইতালীয় নেতার প্রথম সফর।
সম্মেলনের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, “দুই দেশ উন্নত শিল্প যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ, এভিয়েশন ও সেমিকন্ডাক্টরে সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। এছাড়া নিজ নিজ শক্তির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্পে পরিপূরক সহযোগিতা গড়ে তুলব।”
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। এ কারণে আমরা বিশ্বব্যাপী নতুন ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।” তিনি সিউলকে জি-৭ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বিশ্ব শান্তি ও সার্বজনীন মূল্যবোধ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দক্ষিণ কোরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পোল্যান্ডসহ মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো দক্ষিণ কোরীয় অস্ত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে ব্যাপক চুক্তি করেছে। তবে অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে যুদ্ধরত দেশে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ না করার অবস্থান বজায় রেখেছে সিউল।
সম্মেলনে এমওইউ স্বাক্ষর, যৌথ প্রেস ব্রিফিং এবং কাজের মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতা সংস্কৃতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
এই সফর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : বাসস




