শনিবার বিকেলের দিকে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার শিকার হয় বালুচিস্তানের বন্দর শহর গোয়াদারের এক পাঁচ তারা হোটেল। তিন থেকে চার জন জঙ্গি একই সঙ্গে হোটেলের মধ্যে প্রবেশ করে।
এই ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ। ওই হোটেলে চীন এবং অন্যান্য অনেক দেশের পর্যটক আসে। পাকিস্তানের অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব মেনে নিতে পারেনি বিএলএ। সেই কারণেই এই হামলা চালান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএলএ মুখপাত্র জিহান্দ বালোচ। তিনি বলেছেন, “চীনা এবং অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারী থাকা ওই পিসি হোটেলে হামলা চালিয়েছে আমাদের যোদ্ধারা।”
গোয়াদার বন্দর শহর পাকিস্তানের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একটা বড় ভূমিকা রাখে। ইতিমধ্যেই গোয়াদারে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল চীন। সমগ্র বন্দর শহরের পরিবহণ এবং পরুকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বেইজিং। উত্তরের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের সঙ্গে গোয়াদর বন্দরকে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে চীন। বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হলে তা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। সেটিই চাইছে বেইজিং।
পাকিস্তানের মাটিতে চীনের এই প্রভাব মানতে পারছে না বালোচ লিবারেশন আর্মি। ওই দেশের অনেক সংগঠনই চীনের দাপটে ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে নানাবিধ তথ্য সামনে এসেছে।

গোয়াদারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পৌঁছে গিয়েছে সন্ত্রাস দমন শাখার সদস্যরা এবং সেনা জওয়ানেরা। এমনই জানান হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে আরও জানানো হয়েছে যে আক্রান্ত ওই হোটেলের মধ্যে কোনও বিদেশি নাগরিক নেই।
হোটেলের অনেক কর্মী হোটেলে রয়েছেন এবং প্রত্যক্ষভাবে জঙ্গিদের নিশানার শিকার হয়েছেন। জঙ্গিদের হোটেলে প্রবেশ করতে প্রথমেই বাধা দিয়েছিল এক নিরাপত্তারক্ষী। ঘটনাস্থলেই তাকে গুলি করে হত্যা করে দেয় জঙ্গিরা।-বিবিসি




