ফরিদপুরে পাট কাটছেন চাষিরা -সোনালি আশখ্যাত পাটের অঞ্চল ফরিদপুর। জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে আটটিতে পাটের আবাদ হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সাত বছরে বেড়েছে পাটের আবাদ। চলতি মৌসুমে ৮২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার ১৫১ বেল। যা গত বছরের তুলনায় ৯৪ বেল বেশি।
অনুকূল আবহাওয়ায় ফরিদপুরে মানসম্পন্ন পাট উৎপাদন হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে পাটের আবাদ। তাছাড়া এ বছর পাটের পচানোর মতো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উন্নতমানের পাট পাওয়া যাবে। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে জেলার পাটের আবাদ আরও বাড়বে।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত ২০১০-১১ সালে ৭৫ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩ বেল পাট উৎপাদন হয়, ২০১১-১২ সালে ৭৭ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২২ বেল, ২০১২-১৩ সালে ৭১ হাজার ৪৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮১ বেল, ২০১৩-১৪ সালে ৭৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৯ বেল, ২০১৪-১৫ সালে ৭৪ হাজার ৮৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ বেল, ২০১৫-১৬ বছরে ৭ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯০ বেল, ২০১৬-১৭ সালে ৮২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৯ লাখ ২ হাজার ১৪৫ বেল পাট উৎপাদন করা হয়। আর চলতি ২০১৭-১৮ বছরে ৮২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার ১৫১ বেল।
গত সাত বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে ৭ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে। যা অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে বেশি।
ফরিদপুর পাট গবেষণা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে দুই জাতের (তোসা জিআরও ৫২৪-ভারতীয়, এবং মাস্তে ও-৯৮৯৭ দেশি জাত) আবাদ হয়েছে।
ফরিদপুর কৃষিসমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, আবহাওয়াগতভাবে ফরিদপুর অঞ্চল পাট আবাদের জন্যে উপযোগী, ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা পেলে কৃষকরা আরও বেশি পাট চাষে আগ্রহী হবে।




