ডিএমপি নিউজ : প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে আটক ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিয়োগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা উত্তরের-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ বদিউজ্জামান শাহিন, মোছাঃ শিউলি আক্তার শিপন ওরফে অবন্তি ওরফে পবন্তী, মোছাঃ পপি আক্তার ওরফে পপি, জুয়েল মিয়া ওরফে রবিন ওরফে নাহিদ, মোঃ রেজাউল করিম ওরফে মন্টু, পল মৃদুল দাস ওরফে নাদিম মাহমুদ ও মোঃ ইদ্রীস মিয়া।
গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ২২টি মোবাইল, ৫৫টি সিম কার্ড, ৯ হাজার টাকা, একটি চেইন, এক জোড়া দুল, একটি স্বর্ণের রিং, এক জোড়া বালা ও পাঁচটি নগ্ন ভিডিও উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফউল্লাহ, পিপিএম ডিএমপি নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে রিনা চৌধুরীর সাথে ভিকটিম রিক্তিক মাহমুদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রিনা চৌধুরী কৌশলে ভিকটিমকে মুগদা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেই ফ্ল্যাটে আগে থেকে একজন নারী অবস্থান করছিল। সেই নারীর সাথে কথা বলা অবস্থায় পাঁচ মিনিট পর চারজন পুরুষ রুমে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে একজন নিজেকে সাংবাদিক এবং অন্যরা ডিবি পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেয়। হঠাৎ ভিকটিমকে মারধর শুরু করে এবং পরিহিত কাপড়-চোপড় জোরপূর্বক খুলে ফেলে। ভিকটিমকে নগ্ন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা নারীর পাশে দাঁড় করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এছাড়াও ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবী করে, টাকা না দিলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়াসহ পরিবারের সদস্যদেরকে দেখানো হবে মর্মে হুমকি দেয়।
তিনি আরো বলেন, পরে গ্রেফতারকৃতরা ভিকটিমের কাছে থাকা ৮৫ হাজার টাকা এবং সিটি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। উক্ত ডেবিট কার্ড এবং ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ভিকটিমের একাউন্টে থাকা পাঁচ লক্ষ পচানব্বই হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম রিক্তিক মাহমুদ গত ২৪ এপ্রিল মুগদা থানায় মামলা করেন।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর হলে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে গত ১৬ জুলাই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা প্রতারণার কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।





