রাজধানীর সায়েদাবাদে মধ্যরাতে দিনমজুর ও গার্মেন্টস শ্রমিক নিয়ে চট্টগ্রামগামী একটি বাস বিকল হওয়ায় অসহায় অবস্থায় পড়েন বাসের ৩৬ জন যাত্রী। এ সময় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অসহায় যাত্রীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের টিআই মোঃ মুন্নাফ মুন্সীসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন ২০২৫খ্রি. গভীর রাতে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে। সেখানে দায়িত্বরত টিএসআই হাসনাত রাত ০২:৪৫ ঘটিকায় ওয়াকিটকির মাধ্যমে যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের টিআই মোঃ মুন্নাফ মুন্সীকে জানান যে, সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে নারী ও শিশুসহ প্রায় চল্লিশজন যাত্রী কান্নাকাটি করছে এবং চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। টিআই মোঃ মুন্নাফ মুন্সী তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান এবং জানতে পারেন, যাত্রীরা গাইবান্ধা জেলা থেকে ‘ঋতু পরিবহন’ এর একটি বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। বাসটির ৩৬টি সিটের প্রতিটির জন্য তারা এক হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়েছিলেন। সায়েদাবাদ এলাকায় এসে বাসটি হঠাৎ থেমে যায় এবং চালক ও স্টাফরা বাসটিকে ‘বিকল’বলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন দিনমজুর ও গার্মেন্টস শ্রমিক এবং তাদের সঙ্গে খাদ্যদ্রব্য, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য মালামাল ছিলো। তাদের অধিকাংশের কাছে আর কোন টাকা ছিলো না। গভীর রাতে যাত্রীদের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে টিআই মোঃ মুন্নাফ মুন্সী যাত্রীদের সান্ত্বনা দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি আশেপাশে থাকা সিডিএম পরিবহনের একটি বাসের চালক ও স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাথাপিছু ৪০০ টাকা করে মোট ১৪ হাজার ৪০০ টাকায় ৩৬টি সীট ভাড়া করে যাত্রীদের চট্টগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে বাসের ড্রাইভারকে বাস ভাড়া পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রীদেরকে চট্টগ্রামে পাঠান। পরবর্তীতে ঋতু পরিবহনের বাসটিকে রেকারের সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে আসেন। পরদিন সকালে ঋতু পরিবহনের মালিকপক্ষ উপস্থিত হয়ে সিডিএম পরিবহনের বাসভাড়া বাবদ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা এবং রেকার খরচ দিয়ে গাড়িটি নিয়ে যায়।
অসহায় অবস্থায় পড়া যাত্রীরা নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে চট্টগ্রামে পৌঁছান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ মানবিক উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




