টনি স্টার্কের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি আর আর সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়—এবার তা বাস্তবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা এবং বিখ্যাত চশমা নির্মাতা রে-ব্যান যৌথভাবে বাজারে এনেছে অত্যাধুনিক ডিসপ্লে স্মার্ট গ্লাস, যা দিয়ে ছবি তোলা থেকে শুরু করে ফোন করা, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণসহ আরও বহু কাজ করা সম্ভব।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত এই চশমার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৫ হাজার টাকার সমান। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিশ্বের নজর কেড়েছে।
নিউরাল ব্যান্ড: প্রযুক্তির আসল বিস্ময়
চশমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বিশেষ ধূসর রঙের রিস্টব্যান্ড, যার নাম নিউরাল ব্যান্ড। এটি হাতে পরলে হালকা বৈদ্যুতিক স্পন্দনের মাধ্যমে সক্রিয় হয় এবং ব্যবহারকারীর হাতের পেশীতে উৎপন্ন বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করে নির্দেশে রূপান্তর করে।
এই প্রযুক্তির নাম ইএমজি (EMG) টেকনোলজি, যা প্রায় দুই লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর হাতেই এটি সমান কার্যকর।
চশমাটি কীভাবে কাজ করে
হাত মুঠো পাকিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীতে ঘষা দিলে স্ক্রলিং করা যায়।
বুড়ো আঙুল ও তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরলে নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ খুলে যায়—যেন মাউস ক্লিক।
দুই আঙুল আলতো করে ঘোরালে গানের ভলিউম বাড়ানো-কমানো যায়—যেন অদৃশ্য কোনো স্টেরিও নিয়ন্ত্রণ করছেন।
ব্যাটারি ও স্থায়িত্ব
নিউরাল ব্যান্ড এক চার্জে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ব্যবহার করা যায়। চার্জিং কেসে থাকে অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ। এটি পানিরোধী, ফলে বৃষ্টিতে কিংবা ব্যায়ামের সময় ঘাম হলেও কোনো সমস্যা হয় না।
মেটার এই নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস শুধু স্মার্টগ্লাস নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত। মানুষের হাতের সামান্য নড়াচড়াকেই ডিজিটাল কমান্ডে রূপান্তর করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো





