ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তিনদিনের হাজার বছরের পুরোনো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যিবাহী ‘পৌষমেলা-১৪২৪’। গতকাল শেষ হলো নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের কাছে এবং বাঙালির ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংস্কৃতির কাছে নিয়ে যাবার প্রত্যয়ের এই উৎসব। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় অসম্প্রদায়িক চেতনার এই উৎসব। রোববার ছিলো এই পৌষমেলার তৃতীয় ও শেষ দিন। শেষ দিনে সমাপনী কথামালা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী গান-বাজনার সঙ্গে ছিলো আবৃত্তি ও যাত্রাপালা পরিবেশন।
তৃতীয় ও শেষ দিনের সকাল থেকে মেলার প্রবেশ পথ সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। নগরে গ্রামীণ আবহের এ মেলার বিকেলে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। একক গান, দলীয় গান, কবিতা আবৃত্তি এবং যাত্রাপালা পরিবেশন দিয়ে সাজানো ছিলো। আয়োজনের শুরুতেই ছিলো দলীয় সংগীত পরিবেশন। এতে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পঞ্চভাস্কর’ ও মরমী লোগীতি শিল্পীগোষ্ঠী। একক সংগীত পরিবেশন করেন-রাহিমা খাতুন, আঁখি বৈদ্য, শাহানা আক্তার পাপিয়া, দোয়েল রাজ, ফকির সিরাজ, রাজিয়া মুন্নী, রাকিবা খান লুবা, বাবুল সরকার, মঞ্জিলা বাউল, আনিসা বিনতে আবদুল্লাহ, মীরা মন্ডল, উত্তম কুমার এবং বাউল দেলোয়ার ও সোনিয়া বাউল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন-শাহাদাত হোসেন নীপু, ফয়জুল আলম পাপ্পু, আহসান উল্লাহ তমাল ও মাসুম আজিজুল বাসার। আর সবশেষে ময়মনসিংহের যাত্রাদল ‘রূপবান’ পরিবেশন করে যাত্রাপালা।
এর আগে নাগরিক জীবনে পৌষালী প্রভাব ছড়িয়ে ও আবহমান বাংলার শীতকালীন প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা এই মেলায় গত দুইদিনের মতো শেষ দিনের সকাল থেকেই জমে উঠেছিলো মেলা প্রাঙ্গণ। প্রায় সারাদিনই রাজধানীর দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেছিলো মেলা প্রাঙ্গণের দেশীয় ৫০টি পিঠা-পুলির স্টলে-স্টলে। উৎসবমূখর পরিবেশে দিনভর এসব স্টলে-স্টলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান ধরনের নানান স্বাদের পিঠা আর পায়েসে মন মজিয়ে নিয়েছে উৎসব প্রিয় বাঙালির আবাল-বৃদ্ধ-বনিতারা। পাটিসাপটা, তালবড়া, বিবিখানা, মেন্ডা, মোরা, ঝিনুক, দুধ চিতই, জামাই পিঠা, বউ পিঠা, ভাপা পিঠা, সিদ্ধপুলি, পাকন, খেজুর পিঠা, মালপোয়ার পাশাপাশি পায়েস ও ফিন্নি’র সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে এ প্রজন্মের যান্ত্রিক নগরের আপমর নাগরিকদের। পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন মেলায় আগতদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলো শিল্পের উষ্ণতা।
পৌষ মেলা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ও বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টায় ‘আইলা’ জ্বালিয়ে তিনদিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।




