যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার পর পিছু হটেছে ফিফা। ১৬ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে ফিফা ঘোষণা করেছে, যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর বিশ্বস্ত সমর্থকদের জন্য নতুন একটি সস্তা টিকিট ক্যাটাগরি চালু করা হচ্ছে—‘সাপোর্টার এন্ট্রি টায়ার’ নামে, যার দাম প্রতি ম্যাচে স্থির ৬০ ডলার (প্রায় ৫১ ইউরো), ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের সব ১০৪ ম্যাচের জন্য।
ফিফা জানায়, এই ক্যাটাগরির টিকিট কেবল যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর জাতীয় ফেডারেশনের (পার্টিসিপেটিং মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন বা পিএমএ) কোটার ১০ শতাংশ হবে। সব মিলিয়ে প্রতি ফেডারেশনের কোটার অর্ধেক (৪০% সাপোর্টার ভ্যালু টায়ার + ১০% এন্ট্রি টায়ার) সাশ্রয়ী মূল্যে থাকবে।³ এছাড়া, নকআউট পর্বের টিকিট কিনে যদি কোনো সমর্থকের দল আগেই বিদায় নেয়, তাহলে রিফান্ডে প্রশাসনিক ফি মওকুফ করা হবে। ফিফা জানিয়েছে, বর্তমান বিক্রয় পর্বে ইতোমধ্যে ২ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে।⁴ প্রথম দফার লটারি ড্র অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জানুয়ারির পর।
তবে ফ্যান গ্রুপ ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) এই ঘোষণাকে যথেষ্ট মনে করছে না। তারা বলছে, এটি বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে নেওয়া একটি ‘তুষ্টিকরণ কৌশল’ মাত্র।⁵ এফএসই–এর মতে, প্রতি ম্যাচে মাত্র কয়েকশ’ সমর্থক (প্রায় ১,০০০ টিকিট ম্যাচপ্রতি, দুই দলের জন্য ভাগ করে) এই সস্তা টিকিট পাবেন, অধিকাংশকেই এখনও চাঁদাবাজিমূলক দাম দিতে হবে।⁶ এছাড়া প্রতিবন্ধী সমর্থকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না রাখার সমালোচনাও করেছে সংগঠনটি।
গত সপ্তাহে এফএসই টিকিটের দামকে ‘চাঁদাবাজিমূলক’ ও ‘আকাশচুম্বী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিল, কাতার ২০২২–এর তুলনায় এবারের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। একজন সমর্থক যদি গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দল অনুসরণ করেন, তাহলে ন্যূনতম খরচ হবে প্রায় ৬,৯০০ ডলার।⁸ তারা এটিকে বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের প্রতি ‘ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছিল।
ফিফা জোর দিয়ে বলছে, এই টিকিটগুলো যাতে সত্যিকারের বিশ্বস্ত সমর্থকদের হাতে যায়, তা নিশ্চিত করতে জাতীয় ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টটি ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
তথ্যসূত্রঃ ফিফা/ইএসপিএন/বাসস





