মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতা বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলকে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে নগদ এক লক্ষ টাকা করে পুরস্কার এবং ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করেন এবং ফেডারেশনগুলোর উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ক্রীড়া সংগঠকদের ত্যাগ ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো কয়েকটি ফেডারেশন ছাড়া দেশের অধিকাংশ ফেডারেশন এখনো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অতীতের নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের কথা স্মরণ করে বলেন, একসময় এমন মানুষ ছিলেন যারা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।
গুণীজনদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে ভবিষ্যতে আরও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক তৈরি হবে। সরকার সবসময় ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি টেকসই কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেডারেশনগুলো যাতে আর্থিক সংকটে না পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হয়, সেজন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, অতীতে অনুদানের জন্য ক্লাব ও ফেডারেশন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে একটি সুসংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব উল আলম, বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তথ্যসূত্রঃ বাসস।




