বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার প্রথম দিনেই লুইস সুয়ারেজসহ চার সিনিয়র খেলোয়াড়কে নতুন ক্লাব খুঁজে নেওয়ার কথা বলেছিলেন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। তার এ কথায় গত মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই ইঙ্গিত পেয়েছেন লুইস সুয়ারেজ ছয় বছরের মধুচন্দ্রিমা শেষ হচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যে। রোনাল্ড কোম্যান বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর সুয়ারেজকে সাফ জানিয়ে দেন, তার পরিকল্পনার অংশ নন তিনি। তার এ কথা আরো হতাশ করেছে উরুগুয়েন এই স্ট্রাইকারকে।
শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা ছেড়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে পাড়ি জমিয়েছেন সুয়ারেজ। বন্ধুর এই দলবদলে ভীষণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন কাতালানদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তৃতীয় গোলদাতার দলবদল নিয়ে এখনো বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে বার্সার ভেতরে এবং বাইরে।
এমন সময় মুখ খুললেন স্প্যানিশ জায়ান্টদের নতুন কোচ কোম্যান। যেখানে নতুন সুরে কথা বলেছেন ডাচ কোচ। বার্সা কোচ মনে করেন সুয়ারেজ চাইলে থাকতে পারতো এবং নিজেকে ভুল প্রমাণ করতে পারতো। কীভাবে পারবেন সুয়ারেজ? তিনি থাকতে চাইলেও যে তাকে ন্যু ক্যাম্প থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। খোদ তিনিই বলেছেন কথাটা।
যদিও এমনটা মানতে নারাজ বার্সা প্রধান কোচ কোম্যান। রোববার রাতে মেসিদের কোচ বলেছেন, ‘সুয়ারেজকে নিয়ে বলতে গেলে, (পরিকল্পনা অনুযায়ী) শুরু থেকে ওকে খেলানো খুব কঠিন ছিল। আমি ওকে ভালোভাবেই চিনি। ওর কাছে এটা কঠিন মনে হয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে ওর সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা নেই।’
কোম্যান দাবি করলেন সুয়ারেজকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বার্সায় থাকার জন্য। যদিও ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার নাকি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বার্সা কোচ বললেন, ‘ও স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করছিল। শেষ পর্যন্ত ও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমি বলেছিলাম তুমি চলে যেও না, থেকে যাও এবং প্রমাণ করো আমি ভুল ছিলাম। ও চাইলে থাকতে পারতো।’
বার্সায় থাকলেও একাদশে নিয়মিত যে সুয়ারেজ সুযোগ পেতেন না সেটা কোচের কথাতেই পরিষ্কার। সেই তিনিই সম্প্রতি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জার্সিতে খেলতে নেমে স্বপ্নের সূচনা করেছেন। অভিষেক ম্যাচে সুয়ারেজ নিজে করেছেন দুই গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো একটি। তার এমন পারফরম্যান্স নিশ্চয়ই এখন বার্সার আফসোস বাড়াচ্ছে!




