রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু ওরফে ব্লেড বাবু হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি মো. মুরাদ (২৭) কে হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির ডিবি-মিরপুর বিভাগ।
সোমবার (২০ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রি.) রাত ১১:৫০ ঘটিকায় পল্লবী থানাধীন সিরামিক রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি-মিরপুর বিভাগের একটি চৌকস দল।
ডিবি-মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পল্লবী থানাধীন বঙ্গবন্ধু কলেজের পশ্চিম পাশের নতুন রাস্তায় গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ৩:৩০ ঘটিকায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও মারধরে ভিকটিম মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে ভিকটিমকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মিম বাদী হয়ে ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডিবি-সূত্রে আরও জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ডিবি-মিরপুর বিভাগ। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতে পল্লবী থানাধীন সিরামিক রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি FZ ও একটি Turbo মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত মুরাদ পল্লবী এলাকার মুসা-রাজন গ্রুপের সদস্য। ভিকটিম বাবুও পল্লবীর আরেক সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের সদস্য। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিরোধের কারণে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। পুলিশের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রেফতারকৃত মুরাদ হত্যা, ডাকাতিসহ সাতটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
গ্রেফতারকৃত মুরাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।