এই ছয় কিশোরী এতটাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকে যে, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ভিসার আবেদনের জন্য কাবুলে আসতে ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় তাদের।
এতো গেল তাদের ভিসা আবেদনের সংগ্রামের কথা। অবাক করার বিষয় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত নিয়ে পড়ুয়াদের পাওয়া এখন বেশ দুষ্কর। আর মেয়ে হলে তো কথায় নেই।
সেখানে এই ছয় কিশোরী এগিয়ে এসেছে প্রযুক্তির বিকাশে। তাদের মতোই কিশোরীদের আরেকটি দল চলতি বছরের মার্চে রোবট তৈরির কাঁচামাল তাদেরকে সরবরাহ করে।
আমেরিকা থেকে পাঠানো এসব কাঁচামাল ‘সন্ত্রাসবাদের’ অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু এতে থেমে থাকেনি তারা। নিজেদের মাথা খাটিয়ে তরুণ প্রকৌশলীরা গৃহনির্মাণ ও মোটর সামগ্রী দিয়ে তৈরি করে বল-সরটিং রোবটটি।
চলতি মাসেই ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ফাস্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই রোবোটিক প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা। ওই কিশোরীরা সময় নষ্ট না করে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের হেরাথ শহর থেকে রাজধানী কাবুলের উদ্দেশে রওনা হয়।
তারা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনমুতির জন্য মার্কিন দূতাবাসে ভিসার আবেদন করবে। এজন্য পরিবারকে ম্যানেজ করে প্রায় ৫০০ কিলেমিটার পাড়ি দিয়ে কাবুলে পৌঁছায় তারা।
কিশোরীরা কাবুলের মার্কিন দূতাবাসে দু’বার আবেদন করে। এর মধ্যে একবার ভিসা আবেদনের সময় সেখানে ভয়াবহ ট্রাক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু দু’বারই ভিসা না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয় মার্কিন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
আফগানিস্তানের প্রথম নারী প্রযুক্তিবিদ ও সিটাডেল সফটওয়্যার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী রয়া মাহবুব এই টিমের স্পন্সর। তিনি জানান, মেয়েগুলোকে ভিসা দেওয়া হয়নি খবরটি জানানোর পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। দিনভর কান্নাকাটি করে।
ম্যাশহ্যাবলকে রয়া মাহবুব বলেন, ‘প্রথমবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছাত্রীগুলোর সঙ্গে কথা বলা খুবই কঠিন ছিল। তারা বয়সে তরুণ এবং ভীষণভাবে হতাশ হয়েছিল।’
তবে তিনি এই কিশোরীদের দেশটির অন্যান্য নারীদের জন্য অনুকরণীয় বলে বর্ননা করেন।
এই রোবোটিক দলের সদস্য ১৪ বছর বয়সী ফাতেমা ফরবেসকে বলে, ‘বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলাম আমরাও পারি। আমাদের শুধুমাত্র সুযোগ দেওয়া হোক।’
এই কিশোরীরা তাদের প্রতিযোগিতার পেজে লেখে, ‘আমরা ব্যতিক্রম এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্য সেক্টরে শিশুদের জন্য স্বপ্নের কিছু করতে চেয়েছি। শিশু ও মানুষের বসবাসের জন্য ব্যতিক্রম কিছু করতে চেয়েছি।’
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই কিশোরীদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো কিছু জানায়নি। সাম্প্রতিক রেকর্ডে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে আফগানিস্তান থেকে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য ১১২ জনকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে ইরাক থেকে ৭৮০ এবং পাকিস্তান থেকে চার হাজার ৬৭ জনকে ভিসা দেওয়া হয়েছে।
কিশোরীদের ভিসা না দেওয়ার খবরে ফাস্ট গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক কংগ্রেসম্যান জো সিসটেক হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি কিশোরীদেরকে ‘অনুসরণীয় সাহসী নারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং রোবট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অবশ্য এই প্রতিযোগিতায় ইরাক, ইরান ও সুদান থেকে প্রতিযোগিরা যুক্তরাষ্ট্রে অংশ নিচ্ছে।




